তাই নিজেকে গুনাহ থেকে রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। এরপরও যদি কোনো গুনাহ হয়ে যায়, সঙ্গে তওবা করা জরুরি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল গুনাহ ছেড়ে দাও। যারা গুনাহ করে, শিগগিরই তাদেরকে তাদের কৃত গুনাহের কারণে শাস্তি দেওয়া হবে। (সূরা আনআম, আয়াত : ১২০)
মহানবী (সা.) বলেছেন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হয়ে উঠবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৫)
হাসান বসরী রহ. বলেন : আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকার চেয়ে উত্তম কোনো ইবাদত নেই।
গোনাহের মারাত্মক দশটি ক্ষতি তুলে ধরা হলো—
১. আল্লাহ ইবাদত থেকে বঞ্চিত
গুনাহ করলে নেক আমলের তাওফিক কেড়ে নেওয়া হয়। আজান শুনেও মসজিদে না যাওয়া, ইবাদতের আগ্রহ না থাকা—এসব গুনাহের পরিণতি।
২.ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) থেকে বঞ্চিত
ইলম হলো আল্লাহর নূর। গুনাহ সেই আলোকে নিভিয়ে দেয়। ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, ইলম আল্লাহর নূর এবং এই নূর পাপীদের অন্তরে দেয়া হয় না।
৩. রিজিক হ্রাস
মহানবী (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই গুনাহের কারণে মানুষ রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়। (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ৯০)
৪️. বরকতের অবসান
গুনাহের কারণে বরকত নষ্ট হয়ে যায়। ছোট কাজেও বড় সমস্যা দেখা দেয়, প্রচেষ্টা সফল হয় না—এসবই গুনাহের প্রভাব।
৫. প্রিয়জনের অবহেলা
গুনাহের ফলে পরিবার-সন্তান, বন্ধু সবাই দূরে সরে যায়। ভালোবাসা কমে যায়।
৬️. মুমিনদের ঘৃণা
আল্লাহ তায়ালা গোনাহগারের প্রতি মুমিনদের অন্তরে ঘৃণা সৃষ্টি করে দেন।
৭️. চেহারা ও শরীরের পরিবর্তন
গুনাহের কারণে চেহারায় অন্ধকার, দেহে দুর্বলতা, অন্তরে অশান্তি নেমে আসে।
৮. গুনাহ ছাড়া কঠিন হয়ে পড়ে
একটি গুনাহ আরেকটি গুনাহের জন্ম দেয়। বারবার গুনাহ অন্তরকে শক্ত করে ফেলে। তখন গুনাহ ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফেরা কঠিন হয়ে পড়ে।
৯. অন্তরের অন্ধকার
প্রতিটি গুনাহ অন্তরে একটি করে কালো দাগ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুরো অন্তরই অন্ধকার হয়ে যায়।
মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মানুষ যখন গুনাহ করে তখন তার অন্তরে একটা কালো দাগ পড়ে যায়। সাথে সাথে যদি তওবা করে ফেলে তাহলে সেই দাগ মিটে যায়। কিন্তু যদি তাওবা করার আগেই আরেকটি গুনাহ করে তাহলে আরও একটি দাগ পড়ে যায়। এভাবে দাগ পড়তে পড়তে অন্তরটা কালো কুচকুচে হয়ে যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৩৪)
১০. তওবার সুযোগ কমে যায়
অনবরত গুনাহ অন্তরকে এমনভাবে শক্ত করে তোলে যে, মৃত্যুর সময়ও তওবার সুযোগ হয় না।