চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের সমস্যা অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন। অর্থাৎ, দাঁড়ানোর কারণে হঠাৎ করে রক্তচাপ কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন মুম্বাইয়ের গ্লেনেগেলস হাসপাতালের ডা. মঞ্জুষা আগরওয়াল। তাহলে বিষয়টি নিয়ে জেনে নেয়া যাক এবার।
কেন এসব সমস্যা হয়:
এ প্রসঙ্গে ডা. মঞ্জুষা বলেন, আমরা যখন দাঁড়াই তখন মধ্যাকর্ষণ শক্তি রক্তকে পায়ের দিকে টেনে নেয়। ফলে হৃদয়ে রক্ত ফেরত কম হয় এবং এ কারণে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যায়।
শরীরে তখন কী হয়:
এ সময় শরীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। রক্তনালী সংকুচিত হয়, ফলে রক্তচাপ ফের স্বাভাবিক হয়। কিন্তু অর্থোস্ট্যাটিক হাই পোটেনশনে এ প্রতিক্রিয়াই দেরিতে হয়। বলা যায় ঠিকমত প্রতিক্রিয়া হয় না।
এ সমস্যা কাদের বেশি হয়:
এ ব্যাপারে দিল্লির সিকে বিরলা হাসপাতালের ডা. নারেন্দর সিংলা জানিয়েছেন, এ সমস্যা সব থেকে বেশি বয়স্ক মানুষদের মধ্যে দেখা যায়। এছাড়া ডিহাইড্রেশন আক্রান্ত, যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা ডিপ্রেশনের সমস্যা রয়েছে, তাদেরও হয়ে থাকে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হতে হবে:
হঠাৎ মাথা ঘুরে গেলে বা শারীরিক ভারসাম্য হারালে। চোখে ঝাপসা দেখলে, দুর্বলতা বোধ করলে বা হঠাৎ ক্লান্ত বোধ করলে, বমি বমি ভাব হলে, জ্ঞান হারালে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। এ ব্যাপারে থানের কেআইএমএস হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অনিকেত মুলে জানিয়েছেন, সাধারণত শরীর এ ধরনের অবস্থা সামলে নিয়ে থাকে। কিন্তু এসব সমস্যা নিয়মিত হলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এসব সমস্যায় করণীয়:
এ ধরনের সমস্যা প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে কখনো একবারে উঠে দাঁড়াবেন না, ধীরে ধীরে উঠার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন, ডিহাইড্রেশন রোধে চেষ্টা করতে হবে। ক্যাফেইন বা অ্যালকোহলজাতীয় বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে। একসঙ্গে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প করে বারবার খান। পা-এ রক্ত জমা বন্ধ করতে কমপ্রেশন স্টকিং ব্যবহার করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ না দাঁড়িয়ে ১-২ মিনিট বসুন।
✪ আরও পড়ুন: অল্প বয়সে হাঁটু-কোমরের ব্যথায় অতিষ্ঠ? সমাধান জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
ব্যায়াম:
এ ব্যাপারে ডা. নারেন্দর জানিয়েছেন, নিয়মিত ব্যায়াম করা হলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং হৃদপিণ্ড শক্তিশালী থাকে। এতে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দূর হয়।
কখন চিকিৎসক দেখাবেন:
প্রতি সপ্তাহে যদি একাধিকবার মাথা ঘোরে, অজ্ঞান হয়ে যান, হৃদরোগ বা নার্ভ সম্পর্কিত কোনো রোগ থাকে, তাহলে এখনই সাবধান হওয়া উচিত। ডা. মঞ্জুষা বলেন, কয়েক সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান হারালেও বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এ জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন।